Tuesday , June 18 2019
Home / রাজনীতি / রুমিন ফারহানার বক্তব্য নিয়ে সংসদে উত্তাপ

রুমিন ফারহানার বক্তব্য নিয়ে সংসদে উত্তাপ

একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনেই উত্তাপ ছড়ালেন বিএনপির দুই সংসদ সদস্য। আজ মঙ্গলবার রাতে সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে চাঁদ দেখা ও সংসদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় এই উত্তাপ ছড়ায়। এরমধ্যে বিএনপির সংরক্ষিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বক্তব্যের জোরালো প্রতিবাদ জানায় আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যরা। পরে স্পিকার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রুমিন ফারহানার অসংসদীয় বক্তব্য এক্সপাঞ্চ করা হয়।

মঙ্গলবার রাতে সংসদে যোগ দেওয়ার প্রথম দিনে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রুমিন ফারহানাকে দুই মিনিট শুভেচ্ছা বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেন স্পিকার। রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আজকে সংসদে আমার প্রথম দিন। যেকোনো রাজনীতিবিদের মতোই সংসদে আসা, সংসদে দেশের কথা, মানুষের কথা বলা আমার স্বপ্ন ছিল। কিন্তু আমার দুর্ভাগ্য আমি এমন একটি সংসদে এসে প্রতিনিধিত্ব করছি যে সংসদটি জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়।’

এ কথা বলতেই সরকারি দলের সদস্যরা তার বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। দুই মিনিট সময়ের প্রথম কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সংসদকে অবৈধ বলায় ‘হই হই’ করতে থাকেন সরকারি দলের সদস্যরা। কেউ কেউ ‘চুপ চুপ’ বলে থামতে বলেন। কেউ বসে যেতে বলেন।

রুমিন ফারজানা বলেন, ‘নির্বাচনের পর পরই টিআইবির রিপোর্ট দেখেন। বিদেশি গণমাধ্যমের রিপোর্ট দেখেন, বিদেশি পর্যবেক্ষণ দেখেন, এছাড়া যদি ইসির রিপোর্ট দেখেন আপনারা দেখবেন এই সংসদটি জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। সুতরাং আমি খুশি হব, যদি এই সংসদের মেয়াদ একদিনও না বাড়ে।’

রুমিন আরও বলেন, ‘আমি এমন একটি সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলছি যে সংসদে তিন বারের প্রধানমন্ত্রী, আপোষহীন নেত্রী গণতন্ত্রের জন্য যিনি বার বার কারাবরণ করেছেন, জনমানুষের নেত্রী তিনি জীবনে কোনোদিন কোনো আসন থেকে কোনো নির্বাচনে পরাজিত হন নাই। সেই বেগম খালেদা জিয়া সংসদে নাই। তাকে পরিকল্পিতভাবে একটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা মামলায় তাকে আজকে কারাগারে ১২ মাসের অধিক সময় আটকে রাখা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘একজন আইনজীবী হিসেবে দ্বার্থ্যহীন ভাষায় বলতে চাই খালেদা জিয়ার মামলার মেরিট, তার সামাজিক অবস্থান এবং তার বয়স জেন্ডার বিবেচনায় তিনি তাৎক্ষনিব জামিন লাভের যোগ্য।’

এ সময় তিনি বলেন, ‘সরকারের হুমকিতে তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারছেন না। এরপর মাইক বন্ধ হয়ে গেলে তিনি খালি গলায় বলেন আমাদের কথা বলতে দিতে হবে। কথা বলতে না দিলে সংসদে এসে কি লাভ? কথা বলতে না দেওয়া আপনাদের স্বভাবে পরিণত হয়েছে।’

পরে সুযোগ নিয়ে রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন তার অসাংবিধানিক বক্তব্য এক্সপান্স করতে বলেন। এটা সংসদকে অবমাননা করা বলেও দাবি করেন তিনি। এ সময় স্পিকার বলেন, ‘তার অংসদীয় বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করা হলো। তবে কোনটুকু তা উল্লেখ করা হয়নি।’

এর আগে ঈদুল ফিতরের চাঁদ দেখা নিয়ে বিভ্রাটের সমালোচনা করে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ বলেন, ‘বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম হচ্ছে ইসলাম। ঈদের চাঁদ দেখা কমিটি রয়েছে। চাঁদ দেখা যায় সন্ধ্যার সময়। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী প্রথমে ঘোষণা দিলেন, কোথাও চাঁদ দেখা যায়নি, ঈদ হবে না। আবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে হঠাৎ করেই আবার বলা হলো, চাঁদ  দেখা গেছে, কাল ঈদ। এ নিয়ে জনমনে মারাত্মক ভোগান্তির সৃষ্টি করেছে। আর ধর্ম যার যার, উৎসব সবার- এ কথা যারা বলেন তাদের জ্ঞানের অভাব রয়েছে।’ তিনি চাঁদ দেখা নিয়ে বিভ্রাটের জন্য ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করলে সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানান।

About RASEL RASEL

Check Also

‘বুয়েট ছাত্রদলের ভিপি ছিলেন বালিশ মাসুদুল’

পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের আওতায় আসবাবপত্র ও বালিশ ক্রয়সহ অন্যান্য কাজের অস্বাভাবিক ব্যয়ের অভিযোগের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *