Saturday , July 20 2019
Home / অন্যান্য / তানোরে কৃষক সমাজ উত্তপ্ত

তানোরে কৃষক সমাজ উত্তপ্ত

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি
রাজশাহীর তানোরে চলতি মৌসুমে দ্বিতীয় দফায় ধান সংগ্রহ অভিযান নিয়ে কৃষক সমাজ উত্তপ্ত ও বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। স্থানীয়রা জানান, এলাকার কৃষকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও বিস্ফোরণমূখ পরিস্থিতি বিরাজ করছে ধান সংগ্রহ নিয়ে যে কোনো সময় কৃষকদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ বা খুন-জখমের মতো অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটতে পারে সেই আশঙ্কায় কৃষক সমাজ শঙ্কিত হয়ে পড়েছে। এসব বিবেচনায় কৃষকরা দাবী করেছেন আগে আসলে আগে পাবেন সেই নীতিতে কোনো স্লীপ ছাড়াই কৃষি কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি কৃষকের কাছে থেকে ধান ক্রয় করা হোক কেননা স্লীপ দিতে গেলেই নানা অনিয়ম-অসঙ্গতি দেখা দিবে।

 

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, তানোরের কাঁমারগা সরকারী খাদ্যগুদামে চলতি বছরের ৮ জুলাই সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাসরিন বানু ধান ক্রয় করতে গিয়ে বিক্ষুদ্ধ কৃষকদের তোপের মূখে পড়ে ধান ক্রয় না করেই প্রায় সাড়ে তিনশ’ কৃষকের কৃষিকার্ড নিয়ে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খাইরুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম ও কাঁমারগা সরকারী খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মইনুল ইসলাম প্রমূখ। কাঁমারগা ইউপিতে মাত্র ১১৬ মেট্রিক টন ধান ক্রয় করা হবে, কিšত্ত মাইকিং করার ফলে প্রায় সহস্রাধিক কৃষক কৃষি কার্ড নিয়ে ধান দিতে উপস্থিত হওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে। সংশ্লিষ্ট কৃষকেরা এবিষয়ে স্থানীয় সাংসদের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এদিকে ইউএনও সাহেবের ফিরে আশার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার বিপুল সংখ্যক কৃষক কৃষি কার্ড নিয়ে এসেও ধান দিতে না পারায় ধান ক্রয়ের দাবিতে দফায় দফায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। আবার এদিন যারা কার্ড জমা দিতে পারেনি তারা লাঠি-শোঠা হাতে খাদ্যগুদামের সামনে পাহারা বসায় তাদের ধান ক্রয়ের দাবিতে। স্থানীয় কৃষকরা জানান, কাঁমারগা ইউপিতে মাইকিং করা হয়েছে কৃষকের কাছে থেকে নায্যমূল ধান ক্রয় করার জন্য। এদিন এলাকার প্রায় সহস্রাধিক কৃষক কৃষি কার্ড নিয়ে কাঁমারগা সরকারী খাদ্যগুদামে সমবেত হয়। কৃষকদের দাবী তারা কারো কোনো স্লীপের মাধ্যমে ধান বিক্রি করতে চাই না তারা কৃষি কার্ড দিয়ে সরাসরি ক্রয়কেন্দ্রে ধান বিক্রি করতে চাই, আগে আসলে আগে পাবেন এই নীতিতে ধান ক্রয়ের দাবী করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এদিকে যেখানে কৃষি কার্ড ব্যতিত ধান বিক্রির কোনো সুযোগ নাই সেখানে স্লীপের বিষয়টি আসছে কেনো।
জানা গেছে, তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উপজেলা খাদ্য সংগ্রহ অভিযান কমিটির সীদ্ধান্ত ও নীতিমালা উপেক্ষা করে নিজেই ধান ক্রয়ের জন্য মাইকিং করে কৃষকদের মধ্যে স্লীপ বিতরণ শুরু করেন। এতে অধিকাংশক্ষেত্রে প্রকৃত কৃষকগণ বঞ্চিত হচ্ছে। কৃষকের দাবী যদি ইউএনও সাহেব একক ক্ষমতা বলে কৃষকের মধ্যে ধান ক্রয়ের স্লীপ বিতরণ কেেরন তাহলে ক্রয় কমিটি গঠন ও কমিটির সভা ডাকা হয় কেনো তাদের কাজ কি তিনি নিজেই ঘরে বসে স্লীপ দিবেন। এছাড়াও মাইকিং করে কেনো কৃষকের কাছে থেকে ধান নেয়া হচ্ছে না। সচেতন মহলের অভিমত.মাইকিং করে কোনো অবস্থাতেই সুষ্ঠুভাবে ধান ক্রয় সম্ভব নয়। তারা বলেন, আগে আসলে আগে পাবেন এই নীতিতে কৃষকরা কৃষি কার্ড নিয়ে খাদ্যগুদামে যাবেন যাদের ধান শর্ত পূরুণ করে ক্রয় করার মতো তাদের ধান ক্রয় করা হবে।

 

এখানে স্লীপ দিয়ে ধান ক্রয় করতে গেলে তো মহাগ্যাঞ্জাম সৃষ্টি হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংগ্রহ কমিটির এক সদস্য বলেন, পৃথিবির কোথাও মাইকিং করে ধান সংগ্রহ করা হয় না এটা সম্ভবও না। তিনি বলেন, কৃষকরা কৃষি কার্ড নিয়ে সরাসরি ক্রয়কেন্দ্রে আসবেন যাদের ধান ক্রয় করা সম্ভব তাদের ধান ক্রয় করা হবে এবং আগে আসলে আগে পাবেন। এব্যাপারে একাধিকবার যোগাযোগের চেস্টা করা হলেও তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাসরিন বানু মুঠোফোনে কল গ্রহণ না করায় তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এব্যাপারে তানোর উপজেলা চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না বলেন, এবিষয়ে তাকে অবগত করা হয়নি।তিনি বলেন, এলাকায় মাইকিং করে কোন্ োঅবস্থাতেই ধান ক্রয় করা সম্ভব নয়। এব্যাপারে কাঁমারগা ইউপি চেয়ারম্যান মসলেম উদ্দীন প্রামানিক বলেন, ইউএনও সাহেব যেটা করছেন সেটা সঠিক নয় এভাবে ধান সংগ্রহ করা সম্ভব হবে না। #
তানোর প্রতিনিধি

About habiba sakib

Check Also

ভালোবাসো আর নাইবা বাসো আমি তোমায় শুধু ভালোবেসে যাবো,,

  লেখক: আজিজুর রহমান: তোমারি ভাবনায় আসেনা ঘুম! রাত জেগে ভেবে ভেবে থাকি সারাক্ষণ আমি… …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *