Tuesday , September 17 2019

*** রংপুর-৩ আসনের উপ-নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা আজ থেকে শুরু *** রংপুর-৩ উপ-নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দের পর আজ থেকে শুরু হবে প্রচার-প্রচারণা। সকাল ১০টা থেকে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রার্থীরা তাদের প্রতীক সংগ্রহ করবেন। এরপরই নেমে যাবেন গণসংযোগে। *** এখনও ফাইনালে খেলা সম্ভব: সাকিব *** বিশ্বকাপের পর থেকে পরাজয়ের বৃত্তেই আটকে ছিল বাংলাদেশ। ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে হারের বৃত্ত ভাঙেন টাইগাররা। ঠিক পরের ম্যাচেই ফিরে আসেন আগের চিত্রে। আফগানিস্তানের সামনে পড়তেই অসহায় আত্মসমর্পণ করেন সাকিবরা। গত রবিবার আফগানদের কাছে ২৫ রানে হেরেছে তারা। ***

*** মোরেলগঞ্জে নিখোঁজের দু'দিন পর শিশুর লাশ উদ্ধার, সৎ মা আটক **** বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে সিয়াম নামে ৭ বছরের এক শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। থানা পুলিশ মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে লাশটি উদ্ধার করে। বদনিভাঙ্গা গ্রামের মিরাজ মোল্লার ১ম সংসারের ছেলে সিয়াম গত রবিবার দুপুর থেকে নিখোঁজ ছিল। সিয়ামকে হত্যা করে লাশ ঘরের সামনে একটি ডোবার মধ্যে লুকিয়ে রেখেছিল তার সৎ মা ফেরদৌসী বেগম(২২)। *** রাব্বানীর সিন্ডিকেট নিয়ে যা বললেন সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রী *** কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের কাছে নিজের ভুল স্বীকার করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন সদ্য সাবেক হওয়া সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। তিনি স্ট্যাটাসে সংগঠনের নীতি-আদর্শ পরিপন্থী ‘গর্হিত কোন অপরাধ’ করেননি বলে দাবি করেছেন। গোলাম রাব্বানীর ওই স্ট্যাটাসের প্রতিক্রিয়ায় ময়মনসিংহ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও দোলন-চাঁপা হলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নুসরাত জাহান শিমু একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্যসহ কেন্দ্রীয় মাতৃভূমি সাংস্কৃতিক সংসদের সদস্য। ***

Home / অপরাধ / টঙ্গীতে ছুরিকাঘাতে চাঞ্চল্যকর হত্যার ঘটনায় মূল হোতা গ্রেফতার।

টঙ্গীতে ছুরিকাঘাতে চাঞ্চল্যকর হত্যার ঘটনায় মূল হোতা গ্রেফতার।

টংগী প্রতিনিধিঃ র‌্যাবের অভিযানে গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে ছুরিকাঘাতে চাঞ্চল্যকর কামরুল ইসলাম (৩৫) হত্যার ঘটনায় মূল হোতা মোঃ আব্দুল হক রনি বাবু (১৯)’সহ মোট ০৩ জন গ্রেফতার ও হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা সুইচ গিয়ার চাকু উদ্ধার করেছে।
গত ০৭ সেপ্টেম্বর গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পূর্ব থানাধীন কলেজ গেইট এলাকায় মোঃ কামরুল ইসলাম (৩৫) নামক একজন ব্যক্তিকে অজ্ঞাতনামা কতিপয় ছিনতাইকারী ছুরিকাঘাতে হত্যা করে পালিয়ে যায়। ছিনতাইকারীরা নিহত কামরুল ইসলাম এর ডান পায়ের উরুতে ধারালো ছোড়া (সুইচ গিয়ার) দিয়ে গুরুতর জখম করায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। বর্ণিত হত্যাকান্ডের ঘটনায় ভিকটিমের ছোট ভাই মোঃ আবুল কালাম @ মতিউর রহমান (২২) বাদী হয়ে টঙ্গী পূর্ব থানায় অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়, যার নম্বর-২৪ তারিখ ০৭/০৯/২০১৯ ইং, ধারা ধারা- ৩০২/৩৯৪/৩৪ দঃ বিঃ।

সে আরএফএল কোম্পানীর সিলেট জেলার জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিল। ঘটনার দুই দিন পূর্বে ভিকটিম কামরুল ইসলাম সাপ্তাহিক ছুটিতে নাটোরে তার নিজ বাড়িতে যায়। পরবর্তীতে ঢাকাস্থ আরএফএল কোম্পানীর প্রধান অফিসে অফিসিয়াল মিটিং এ অংশগ্রহনের উদ্দেশ্যে গত ০৬/০৯/২০১৯ ইং তারিখ বাড়ি থেকে রওনা দেয়। গত ০৭/০৯/২০১৯ ইং তারিখ রাত আনুমানিক  ৪ টায় ভিকটিম টঙ্গী পুর্ব থানাধীন দত্তপাড়ায় তার পূর্ববর্তী কর্মস্থলের সহকর্মীদের সাথে রাত্রিযাপনের উদ্দেশ্যে কলেজ গেইট এলাকায় পৌঁছালে অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জন ছিনতাইকারী ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাকে অতর্কিত আক্রমন করে। এসময় ছিনতাইকারীদের বাধা প্রদান করায় তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে ভিকটিমকে মাতাÍক ভাবে জখম করে তার নিকটে থাকা মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও নগদ ৩৫,০০০/- টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ভিকটিমকে রক্তাক্ত অবস্থায় পরে থাকতে দেখে টঙ্গী পূর্ব থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ভিকটিমের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দিন আহাম্মেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।

এরই ধারাবাহিকতায় ৯ সেপ্টেম্বর র‌্যাব-১, উত্তরা, ঢাকা এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পূর্ব থানাধীন এরশাদ নগর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বর্ণিত হত্যাকান্ডের মূল হোতা ১) আব্দুল হক রনি @ বাবু (১৯),  তার সহযোগী ২) মোঃ সুজন @ শাহজালাল (২১),  (হানিফ মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া) ৩) মোঃ আউয়াল হাওলাদার (২৬)(জলিল মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া), থানা- টঙ্গী পূর্ব, জিএমপি, গাজীপুর’দের গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত আসামীদের নিকট হতে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ০১ টি ধারালো সুইচ গিয়ার চাকু, হত্যার সময় ব্যবহৃত ০১ টি অটোরিকশা এবং ভিকটিমের ব্যবহৃত ০১ টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামীরা বর্ণিত হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।
ধৃত আসামীদেরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, তারা একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য এবং প্রত্যেকে পেশাদার ছিনতাইকারী। এছাড়াও তারা প্রত্যেকে যাত্রী পরিবহনের সাথে জড়িত। তাদের মধ্যে ধৃত আসামী বাবু বাসের চালক, আউয়াল অটোরিকশা চালক ও সুজন বাসের কন্ট্রাক্টর। ছিনতাই কাজের সুবিধার জন্য তারা এসব পেশা বেছে নিয়েছে। তাদের বাসে নিয়মিত যাতায়তকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের গতিবিধী তারা অনুসরণ করে এবং কোন প্িরতষ্ঠানের বেতন-ভাতা কবে দেওয়া হবে সেই খোঁজ খবরও রাখে। বাসে ভাড়া নেওয়ার সময় যাত্রীর নিকট কি পরিমান টাকা আছে এবং কোন মূল্যবান সামগ্রী আছে কিনা সেটা অনুমান করার চেষ্টা করে। কোন যাত্রীর কাছে মোটা অঙ্কের টাকা অথবা মূল্যবান সামগ্রী আছে জানতে পারলে বাস থেকে সেই যাত্রী নেমে যাওয়ার পর পরই তারা তাদের অন্য সদস্যদের ঐ যাত্রীর বেশ-ভূষা ও কোথায় নেমেছে তার বিস্তারিত বিবরণ জানায়। পরবর্তীতে তাদের কথামতো উক্ত এলাকায় থাকা এই চক্রের সদস্যরা ভিকটিমকে সনাক্ত করে নির্জন স্থানে যাওয়া মাত্রই অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সবকিছু ছিনিয়ে নেয়। এছাড়াও যারা অটোরিকশা চালায় তারা এলাকায় অপরিচিত যাত্রীদের কৌশলে নির্জনে নিয়ে তার অন্যান্য সহযোগীদের সহায়তায় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সর্বস্ব ছিনিয়ে নেয়। এক্ষেত্রে অটোরিকশা চালক যাত্রী উঠানোর পর মোবাইল ফোনে কথা বলার ফাঁকে কৌশলে তার গন্তব্য ও যাওয়ার রাস্তা কথা চক্রের অন্যান্যদের জানিয়ে দেয়। তারা সকাল ৬টা  হতে রাত ২ টা  পর্যন্ত কাজ করে। এরপর রাত গভীর হওয়ার সাথে সাথে তারা হয়ে উঠে একজন ভয়ঙ্কর ছিনতাইকারী। তারা সাধারণত রাত ১টা থেকে ৫ টা মধ্যে টঙ্গীস্থ বিভিন্ন নির্জন এলাকায় ওৎ পেতে থাকে এবং সুযোগ বুঝে সাধারণ পথচারীদের আক্রমণ করে সবর্স্ব ছিনিয়ে নেয়। তারা অধিকাংশ সময় ছিনতাই শেষে ভিকটিমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে যাতে নিরাপদে ফিরে যেতে পারে এবং পাল্টা আক্রমনের শিকার না হয়। এছাড়াও তারা মাঝে মাঝে মোটর সাইকেল দিয়ে ছিনতাই করে থাকে। সাধারণ পথচারী মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় এবং নারী পথচারীদের পরিধেয় স্বর্ণালংকার লক্ষ্য করে মোটর সাইকেল হতে আকসাৎ থাবা দিয়ে ছিনিয়ে নেয় বলেও জানা যায়।
গ্রেফতারকৃত আসামী আব্দুল হক রনি @ বাবু’কে জিজ্ঞাসাবাদে জানায় যে, সে পেশায় আব্দুল্লাহপুর-বাড্ডা রুটের একটি পাবলিক বাসের ড্রাইভার। সে প্রায় ০৭ বছর ধরে এই পেশায় নিয়োজিত। সে দীর্ঘ দিন যাবৎ সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। এছাড়াও সে ৫ বছরের বেশী সময় ধরে মাদকাসক্ত। তার বিরুদ্ধে টঙ্গী থানায় একাধিক ছিনতাই ও মাদক মামলা রয়েছে বলে জানা যায়। তার দেওয়া তথ্য মতে, ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ২টা ৩০মিনিট  দিকে ধৃত আসামী সুজন দলের সবাইকে ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে একত্র করে। তার পরিকল্পনা অনুসারে দলের সবাই ধৃত অপর আসামী আউয়াল এর অটোরিকশাতে করে বেরিয়ে পরে। পথিমম্যে ভিকটিম কামরুল ইসলাম কে তারা একাকি পেয়ে আক্রমণ করে। এসময় আসামী সুজন ও আউয়াল অটোরিকশা নিয়ে দুরে দাড়িয়ে থাকে। যাতে করে তারা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর টহল গাড়ি বা অন্য কোন বিপদ দেখামাত্র তাদের জানাতে পারে এবং কাজ শেষে দ্রæত পালাতে পারে। তাদের ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে আসামী রনি তার নিকটে থাকা ধারালো সুইস গিয়ার চাকু দিয়ে ভিকটিমের ডান উরুতে আঘাত করে। এতেকরে ভিকটিম গুরুতর জখমপ্রাপ্ত হলে তারা তার মোবাইল, ল্যাপটপ ও টাকা ছিনিয়ে নিয়ে আউয়াল এর অটোরিকশায় করে দ্রুত পালিয়ে যায়।
গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ সুজন @ শাহজালাল’কে জিজ্ঞাসাবাদে জানায় যে, সে পেশায় আব্দুল্লাহপুর-বাড্ডা রুটে একই পাবলিক বাসের কন্ট্রাক্টর যেটাতে আসামী বাবু চালক হিসেবে কাজ করে। কাজের সুবিধার জন্য ধৃত আসামী বাবু ও সে অধিকাংশ সময় একই গাড়িতে কাজ করে থাকে। সে প্রায় ৭/৮ বছর ধরে এই পেশায় নিয়োজিত। পাশাপশি সে দীর্ঘ দিন যাবৎ এই ছিনতইকারী চক্রের সাথে জড়িত। সে এই ছিনতাইকারী চক্রের একজন পরিকল্পনাকারী। তার নির্দেশনা ও পরিকল্পনাতেই দলের অন্যান্যরা ছিনতাইকাজে অংশগ্রহণ করে থাকে। বর্ণিত ঘটনার দিন তার ডাকেই সবাই একত্রিত হয় এবং বর্ণিত ছিনতাই ও হত্যাকান্ড সংঘটিত করে। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক ছিনতাই ও মাদক মামলা আছে বলে জানা যায়।

About habiba sakib

Check Also

টাঙ্গাইলে জামায়াতের ৭ মহিলা কর্মীসহ ১০ জন গ্রেফতার

খায়রুল খন্দকার টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইলের কালিহাতী থেকে জামায়াত ইসলামীর ৭ মহিলা সদস্যসহ ১০ জন সক্রিয় …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *